• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

বাতিল হচ্ছে ৫০৮ মাদরাসার পাঠদান

সিসি নিউজ: ৫০৮ মাদরাসার পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিচ্ছুক, ফল বিপর্যয়সহ নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত ১০ জানুয়ারি এসব মাদরাসা সুপারদের কারণ দর্শিয়ে চিঠি দিয়েছে মাদরাসা অধিদপ্তর। চিঠিতে ৯ ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলেই চূড়ান্তভাবে অনুমোদন বাতিল হবে।

বিষয়টি স্বীকার করে মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, শুধু ফল বিপর্যয় ও কম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কারণেই নোটিশ দেয়া হয়নি। শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিতে ফলাফলে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানকে আরো ভাল করতে সতর্ক নোটিশ দেয়া হয়েছে।

নোটিশ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালে দাখিলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের রবিউল আউয়াল দাখিল মাদরাসা থেকে মাত্র ৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ২ জন। একই জেলার নওদা খারারা নেছারিয়া দারুচ্চুন্নাত দাখিল মাদরাসা থেকে ৪ জন অংশ নিয়ে পাস করে ২ শিক্ষার্থী। লালমনিরহাটের বদশাহ দারুচ্চুন্নাহ দাখিল মাদরাসা থেকে ৩ জন অংশ নিয়ে ১ শিক্ষার্থী পাস করেছে। রাতিপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ২ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ জন। একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পরেনি এমন মাদরাসাও রয়েছে।

এভাবে সারাদেশে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাখিলে ফল বিপর্যয় হয়েছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তি এবং পাঠদানের অনুমতি নিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

কারণ দর্শানো পত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে প্রতি বছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জাতীয় স্কেলে ২০১৫ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদেরও যথাযোগ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পরেও দাখিলে ফল বিপর্যয় ও কম শিক্ষার্থী ভর্তি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাদরাসা এবং মাদরাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যেসব মাদরাসা থেকে ২০১৬ সালে দাখিলে ১০ জনের কম শিক্ষার্থীর অংশ গ্রহণ করেছে, পাসের হার ৫০ ভাগের নিচে, ৯ জনের কম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এ ধরনের ৫০৮ মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

পত্রে মাদরাসাগুলোর শ্রেণি ভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ২০১৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী কম কেন? বিগত তিন বছরের দাখিলের ফল, মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, প্রতি বছর শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য সরকারি আর্থিক অনুদান/ সরকারি বেতন-ভাতাদি বাবদ ব্যয় এসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উল্লেখিত তথ্যের ব্যাখসহ কারণ দর্শানোর নোটিশের জাবাব দিতে বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ